Friday, September 6, 2024

শুক্রবার অন্য দিন থেকে কেন আলাদা?




 গুনাহ মাফের দিন

হজরত আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গোসল করে জুমার নামাজে এলো, এরপর সাধ্যমত (সুন্নাত) নামাজ আদায় করলো, এরপর ইমামের খুতবাহ শেষ হওয়া পর্যন্ত চুপ থাকলো; এরপর ইমামের সঙ্গে (জুমার) নামাজ আদায় করল, এতে তার দুই জুমার মধ্যবর্তী দিনসমূহ এবং আরো তিন দিন (মোট ১০ দিনের) গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’

অন্য বর্ণনায় এসেছে, আর যে ব্যক্তি (অহেতুক) কঙ্কর স্পর্শ করল সে অনর্থক, বাতিল, ঘৃণিত ও প্রত্যাখ্যানযোগ্য কাজ করলো।’ (মুসলিম)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার নামাজ আদায়ের জন্য উত্তমরূপে অজু করে (মসজিদে) উপস্থিত হয়, এরপর চুপ করে মনোযোগ দিয়ে খুত্ববাহ শুনে, তার (ঐ) জুমা থেকে (পরবর্তী) জুমা পর্যন্ত বরং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি পাথর কুচি অপসারণ বা নাড়াচাড়া করলো সে অনর্থক কাজ করলো।’ (আবু দাউদ)

হজরত সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুন্দর করে গোসল করবে, এরপর তেল ব্যবহার করবে এবং সুগন্ধি নেবে, তারপর মসজিদে গমন করবে, দুই মুসল্লির মাঝে জোর করে জায়গা নেবে না, সে নামাজ আদায় করবে এবং ইমাম যখন খুতবা দেবেন, (তখন) চুপ করে মনোযোগসহকারে তাঁর খুতবা শুনবে। দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (আবু দাউদ)

 দোয়া কবুলের দিন

জুমা দিনের ফজিলতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে যখন দোয়া করলে তা কবুলের আশা করা যায়। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় এসেছে-

হজরত আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমার দিনের যে মুহুর্তে (দোয়া কুবুল হওয়ার) আশা করা যায় তা আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের মধ্যে তালাশ করো।’ (তিরমিজি, মুসলিম, মিশকাত, তালিকুর রাগিব)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জুমার দিনে একটা এমন সময় আছে, যে সময়ে কোনো মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে ভালো কোনো কিছু প্রার্থনা করলে, অবশ্যই আল্লাহ তাঁকে তা দান করবেন। (মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)


জুমার দিনে দোয়া কবুল হওয়ার সে মহামূল্যবান সময় কখন?

এ সম্পর্কে ৪৫টা মতামত পাওয়া যায়। তবে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মত হলো, আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময় দোয়া কবুলের সময়। যা হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। আর সে সময়টি হলো আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। (মুসনাদে ইবনে আবি শাইবা, তিরমিজি)

 

জুমা না পড়ার পরিণতি

হজরত আবদুল্লাহ ইবনু ওমর ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার মিম্বারের সিড়িতে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন, ‘যারা জুমার নামাজ ত্যাগ করে তাদেরকে এ অভ্যাস বর্জন করতে হবে। নতুবা আল্লাহ তাদের অন্তরে সীল (মোহর) মেরে দিবেন; এরপর তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।’ (মুসলিম)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, জুমার দিন আগে আগে মসিজদে যাওয়া। দিনটি ইবাদত-বন্দেগি ও ভালো কাজে অতিবাহিত করা।

শুক্রবার অন্য দিন থেকে কেন আলাদা?

মালেক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে সাব্বাক থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো এক জুমার দিনে বললেন, ‘হে মুসলিম সম্প্রদায়! আল্লাহ তায়ালা এই দিনটিকে ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

আল্লাহ তায়ালা নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও গোটা জগতকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। এই ছয় দিনের শেষ দিন ছিল জুম্মার দিন।

জুমার দিনের মৃত্যুর ফজিলত ও রয়েছে।

এই দিনেই হজরত আদম (আ.) সৃজিত হন। এ দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়। এবং এ দিনেই জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নামানো হয়।

হযরত আদম আ. এর সৃস্টি:

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনে তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। (মুসলিম, হাদিস : ৮৫৪)

কেয়ামত শুক্রবারেই অনুষ্ঠিত হবে?

কেয়ামত এ দিনেই সংঘটিত হবে। আল্লাহ তায়ালা প্রতি সপ্তাহে মানবজাতির সমাবেশ ও ঈদের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু পূর্ববর্তী উম্মতরা তা পালন করতে ব্যর্থ হয়। ইসলামে জুম্মার গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহপাক কোরআন পাকে ইরশাদ করেন,

‘হে মুমিনগণ জুম্মার দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের উদ্দেশেও দ্রুত ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর’। সূরা জুমা, আয়াত নং-৯।


জুম্মার আজান হলে দ্রুত মসজিদে যাওয়া :

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, মুমিনগণ, জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রত অগ্রসর হও এবং বেচা-কেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ। সূরা- আল জুমা, আয়াত: ৯

জুমার দিনে আজানের আগেই সব কর্মব্যস্ততা ত্যাগ করে জুমু’আর নামায আদায়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করে মসজিদে গমন করা ঈমানী দায়িত্ব।

এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, সকল দোয়া কবুল হয়। এই দিনের বিশেষ কিছু আমল রয়েছে, যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। যথাসম্ভব দ্রুত মসজিদে যাওয়া। এই দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে দ্রুত মসজিদে যাওয়া। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো।

এটা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বোঝো।’ (সুরা জুমআ)


আগে মসজিদে যাওয়ার ফজিলত:

রাসূল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন।

যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির ন্যায় যে একটি মোটাতাজা উট কোরবানি করে। এরপর যে আসে সে ওই ব্যক্তি যে একটি গাভী কোরবানি করে। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর ন্যায়। তারপর ইমাম যখন বের হন তখন ফেরেশতাগণ তাদের লেখা বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতে থাকেন। (বুখারি, হাদিস : ৯২৯)


ফজিলত পূর্ণ আমল:

মুসনাদে আহমাদ এর ৫৮১ নং হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, আগে আগে মসজিদে গমন করল, হেঁটে মসজিদে গেল, ইমামের কাছাকাছি বসল, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনল, কোনো কথা বলল না, আল্লাহ তায়ালা তাকে প্রতি কদমে এক বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব দান করবেন।


শুক্রবারের নামাজ:

আজানের পরপর নামাজের জন্য মসজিদে প্রবেশ করা উত্তম। এবং মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনাও ওয়াজিব।

সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা:

কাহাফ কোরআনের ১৮ নম্বর সূরা। অর্থ- গুহা। মোট আয়াত ১১০।মক্কায় অবতীর্ণ। জুম্মার দিনে সূরা কাহ্ফ তিলাওয়াত করা ফজিলত পূর্ণ আমল।

রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমা পর্যন্ত নূর উজ্জ্বল করা হবে। (আমালুল ইয়াওমী ওয়াল লাইল, হাদিস : ৯৫২)

দরুদ শরিফ পাঠ করা:

বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা এবং বেশি বেশি জিকির করা মোস্তাহাব। এ বিষয়ে রাসুল (সা.) বলেন, দিনসমূহের মধ্যে জুমার দিনই সর্বোত্তম।

এই দিনে হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে।

এই দিনে সমস্ত সৃষ্টিকে বেহুশ করা হবে। অতএব তোমরা এই দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দরুদ আমার সম্মুখে পেশ করা হয়ে থাকে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

শুক্রবার রাতের আমল:

জুম্মার রাত (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) ও জুম্মার দিনে নবী করিম (সা.) এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠের কথা বলা হয়েছে। এমনিতেই যে কোনো সময়ে একবার দরুদ শরিফ পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা পাঠকারীকে দশটা রহমত দান করেন এবং ফেরেশতারা তার জন্য দশবার রহমতের দোয়া করেন। জুম্মার নামাজের পূর্বে দুই খুতবার মাঝখানে হাত না উঠিয়ে মনে মনে দোয়া করা।

আসরের পরের আমল:

সূর্য ডোবার কিছুক্ষণ আগ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত গুরুত্বের সাথে জিকির, তাসবীহ ও দোয়ায় লিপ্ত থাকা। কারণ এটি শুক্রবার দোয়া কবুলের সময়। এ দিন প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৮৪)।

এ দিনে বেশি বেশি দোওয়া পড়ার কথা রাসূল সা. নিজেই বলেছেন।

জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত এমন আছে যে, তখন কোনো মুসলমান আল্লাহর নিকট যে দোয়া করবে আল্লাহ তা কবুল করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮) এছাড়াও জুমার দিনের ফজিলতের হাদিস সমূহ বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ গুলো দ্বারা স্বীকৃত।

সবমিলে পবিত্র জুমার ফজিলত অপরিসীম। উপরে বর্ণিত জুম্মার দিনে করণীয় আমল সমূহ যথাযথভাবে পালন করলে কামিয়াবি আসবে ইনশাআল্লাহ।

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল পাক (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন আসর নামাজের পর না উঠে ওই স্থানে বসা অবস্থায় ৮০ বার নিম্নে উল্লেখিত দরুদ শরিফ পাঠ করবে, তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হবে। এবং ৮০ বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব তার আমল নামায় লেখা হবে। (সুবনহান আল্লাহ) দোয়াটি হলো: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহী ওয়াসাল্লিম তাসলীমা’ ।

সময় একই হলেও জোহরের সাথে জুমার নামাজের নিয়মগত কিছু পার্থক্য রয়েছে, আর জুমার দিন হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন। সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। ইসলামে এ দিনটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক। পবিত্র কোরআনের নির্দেশ, জুমার আযান হলেই বেচাকেনা বন্ধ করে দাও, আল্লাহর স্মরণে চলো। নবী সা. এ দিনের বিপুল ফজিলত বর্ণনা করেছেন। বিভিন্ন আমলেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

যেভাবে এলো জুমার দিন: প্রথম হিজরি সন। নবী সা. মক্কা ছেড়ে মদিনা গেলেন। নবী সা. এর মদিনায় পৌঁছার দিনটি ছিল ইয়াওমুল আরুবা (শুক্রবার)। সেদিন তিনি বনি সালেম গোত্রের উপত্যকায় গেলে জোহর নামাজের সময় হয়। সেখানে তিনি জোহর নামাজের পরিবর্তে জুমার নামাজ আদায় করেন। এটাই ইতিহাসের প্রথম জুমার নামাজ।

তবে আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় আরও পরে। রাসুলুল্লাহ সা. এর মদিনায় যাওয়ার পর এবং জুমার নামাজ ফরজ হওয়ার আগে একবার মদিনার আনসার সাহাবিরা আলোচনায় বসেন। তারা বললেন, ইহুদিদের জন্য সপ্তাহে একটি দিন নির্দিষ্ট রয়েছে, যে দিনে তারা সবাই একত্র হয়। নাসারারাও সপ্তাহে একদিন একত্র হয়। সুতরাং আমাদের জন্য সপ্তাহে একটি দিন নির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন, যে দিনে আমরা সবাই সমবেত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করব, নামাজ আদায় করব। অতঃপর তারা আলোচনায় বললেন, শনিবার ইহুদিদের আর রোববার নাসারাদের জন্য নির্ধারিত। অবশেষে তারা ইয়াওমুল আরুবা শুক্রবারকে গ্রহণ করলেন এবং তারাই এদিনকে ‘জুমার দিন নামকরণ করলেন। (সীরাতুল মুস্তাফা ও দারসে তিরমিজি)


কোরআনে জুমার দিন:

জুমার দিন ও জুমার নামাজের গুরুত্ব স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনও কোরআনে তুলে ধরেছেন। জুমার নামাজ আদায়ের ব্যাপারে ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আযান দেয়া হয়, তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত চলো এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ। অতঃপর নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ খোঁজ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সুরা জুমআ : আয়াত ৯-১০)


হাদিসে জুমার দিন:

হজরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু করল, অতঃপর জুমা পড়তে এলো এবং মনোযোগ সহকারে নীরব থেকে খুতবাহ শুনলো, সে ব্যক্তির এই জুমা ও (আগামী) জুমআর মধ্যেকার এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের (ছোট) পাপসমূহ মাফ করে দেয়া হলো। আর যে ব্যক্তি (খুৎবাহ্ চলাকালীন সময়ে) কাঁকর স্পর্শ করল, সে অনর্থক কাজ করল। (অর্থাৎ সে জুমার সওয়াব ধ্বংস করে দিল।) (মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমদ এর নামাজ অধ্যায়)


জুমার নামাজের বিধান:

শুক্রবার জুমার নামাজকে ফরজ করা হয়েছে। জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ ও ইমামের খুতবাকে জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। হজরত তারেক ইবনে শিহাব রা. থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ক্রীতদাস, মহিলা, নাবালেগ বাচ্চা ও অসুস্থ ব্যক্তি এই চার প্রকার মানুষ ছাড়া সকল মুসলমানের ওপর জুমার নামাজ জামাতে আদায় করা অপরিহার্য কর্তব্য (ফরজ)। (আবু দাউদ : ১০৬৭, মুসতাদরেকে হাকেম : ১০৬২, আস্-সুনানুল কাবীর : ৫৫৮৭)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া জুমার নামাজ বর্জন করবে, তার নাম মুনাফিক হিসেবে এমন দফতরে লিপিবদ্ধ হবে, যা মুছে ফেলা হবে না এবং পরিবর্তনও করা যাবে না। (তাফসিরে মাজহারি, খ- : ৯, পৃষ্ঠা : ২৮৩) হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এ মর্মে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সা. যে সমস্ত লোক জুমার নামাজ থেকে দূরে থাকে (পড়ে না) তাদের সম্পর্কে বলেছেন, নিশ্চয়ই আমার ইচ্ছা হয় যে আমি কাউকে নামাজ পড়ানোর আদেশ করি, সে মানুষকে নামাজ পড়াক। অতঃপর যে সমস্ত লোক জুমার নামাজ পড়ে না, আমি তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিই। (মুসলিম : ৬৫২, মুসনাদে আহমাদ : ৩৮১৬, মুসনাদে ইবনে আবি শাইবা : ৫৫৩৯, আসু-সুনানুল কুবরা : ৪৯৩৫)


জুমার দিনের নিষিদ্ধ কাজ:

জুমার দিনে মূলত আযানের পর থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়টিতে কিছু ফরজ বিধান রয়েছে। এ সময়টিতে কিছু বিধান মেনে চলতে হবে। শরীয়ত বর্হিভূত কোনো কাজ করা যাবে না। যেমন আযান হয়ে যাওয়ার পরও ব্যবসা বা অনর্থক কাজে ব্যস্ত থাকা। উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য খুতবা শ্রবণ করা ওয়াজিব। তাই খুতবা চলাকালে নিরর্থক কাজে লিপ্ত থাকা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।

হজরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, জুমার দিন খুতবা প্রদানের সময় যদি তুমি তোমার সঙ্গীকে বলো, চুপ করো তখন তুমি অনর্থক কথাই বললে। (সহিহ বোখারি: ১/১২৮)

বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে সুদৃঢ়ভাবে প্রমাণ হয়, খুতবার সময় চুপচাপ ভাবে খুতবা শ্রবণ করা ওয়াজিব এবং কথাবার্তা বলা হারাম। অনুরূপ খুতবার সময় সুন্নত-নফল নামাজ পড়াও বৈধ নয়। অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যখন ইমাম খুতবার জন্য বের হবেন, তখন নামাজ পড়বে না, কথাও বলবে না। (মেশকাত: ৩/৪৩২)

ফিকাহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ফাতাওয়ায়ে শামীতে একটি মূলনীতি উল্লেখ হয়েছে, যেসব কর্ম নামাজের মধ্যে হারাম, তা খুতবা চলাকালীন সময়ও হারাম। যেমন: কথাবার্তা বলা, পানাহার করা ইত্যাদি। (ফাতাওয়ায়ে শামি: ৩/৩৫)


জুমার দিনের বিশেষ আমল:

জুমার দিনের সীমাহীন ফজিলত রয়েছে। নবী সা. বিভিন্ন হাদিসে এসব ফজিলতের কথা তুলে ধরেছেন। বোখারি শরিফের হাদিসে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো পুরুষ যখন জুমার দিন গোসল করে, সাধ্যমত পবিত্রতা অর্জন করে, তেল ব্যবহার করে বা ঘরে যে সুগন্ধি আছে তা ব্যবহার করে, তারপর (জুমার জন্য) বের হয় এবং (বসার জন্য) দুই জনকে আলাদা করে না, এরপর সাধ্যমত নামায পড়ে এবং ইমাম যখন কথা বলে তখন চুপ থাকে, তাহলে অন্য জুমা পর্যন্ত তার (গুনাহ) মাফ করা হয়।

বিভিন্ন হাদিসেরভিত্তিতে ফেকাহবিদরা সেসব আমলকে নির্দিষ্ট করেছেন। 

১. জুমার দিন গোসল করা। যাদের ওপর জুমা ফরজ তাদের জন্য এ দিনে গোসল করাকে রাসুল সা ওয়াজিব করেছেন। তবে আহনাফদের মাযহাব অনুযায়ী সুন্নত। ২. পরিচ্ছন্নতার অংশহিসেবে সেদিন নখ ও চুলকাটা একটি ভালো কাজ। 

৩. জুমার সালাতের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার (বুখারি) 

৪. মিসওয়াক করা। (ইবনে মাজাহ) 

৫. গায়ে তেল ব্যবহার করা। (বুখারি) 

৬. উত্তম পোশাক পরিধান করে জুমা আদায় করা। (ইবনে মাজাহ) 

৭. মুসল্লিদের ইমামের দিকে মুখ করে বসা। (তিরমিযি) 

৮. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া। (আবু দাউদ)

 ৯. জুম্মার দিনও জুম্মার রাতে বেশি বেশি দুরুদ পাঠ। (আবু দাউদ: ১০৪৭) 

১০. এ দিন বেশি বেশি দোয়া করা। (বুখারি) 

১১. মুসুল্লীদের ফাঁক করে মসজিদে সামনের দিকে এগিয়ে না যাওয়া। (বুখারি)

১২. জুমার দিনসূরা কাহাফ পড়া। পাঠকারীর জন্য আল্লাহ তায়ালা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়কে আলোকিত করে দেন।


জুমার দিন দোয়া কবুলে সময়:

জুমাবারের ফজিলতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো, এই দিনে এমন একটা সময় আছে, যখন মুমিন বান্দা কোনো দোয়া করলে মহান আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন। আবু হুরায়রা রা. থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, জুমার দিনে একটা এমন সময় আছে, যে সময়ে কোনো মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে ভালো কোনো কিছু প্রার্থনা করলে, অবশ্যই আল্লাহ তাকে তা দান করবেন। (সহীহ মুসলিম : ৮৫২, মুসনাদে আহমাদ : ৭১৫১, আস্-সুনানুল কুবরা : ১০২৩৪) জুমার দিনে দোয়া কবুল হওয়ার সে মহামূল্যবান সময় কোনটা? এ সম্পর্কে ৪৫টা মতামত পাওয়া যায়। তবে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মত হলো, আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত দোয়া কবুলের সময়। হজরত আনাস (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, জুমার দিনের কাঙ্ক্ষিত সময়টা হলো আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। (মুসনাদে ইবনে আবি শাইবা : ৫৪৬০, তিরমিজি : ৪৮৯)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমার দিনের হক আদায় করে ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। 

ড. ইউনূসকে ৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে পরামর্শ দিলেন রনি

ড. ইউনূসকে ৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে পরামর্শ দিলেন রনি  

Thursday, September 5, 2024

যিনা কি ?

 


✔
যিনা কাকে বলে---.কোন কাজ গুলো যিনা??

লজ্জা না করে আমাদের সকলের জানা উচিৎ!
হে মুসলিম ভাই ও বোনেরা!
জাহান্নামের কঠিন আজাব থেকে বাঁচতে
চাইলে এখনি নিজেকে শুধরাও!
নিজের আবেগ আর মন গড়া যুক্তি দিয়ে
জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচা যাবেনা!

যিনা কী ?
শুধুই অবৈধ ভাবে মেলামেশা করাকে বলা হয়? না!
যিনা বহু প্রকারে বিভক্ত。✔
১। কোন বেগানা নারী অথবা পুরুষের
প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যিনা!
২। যৌনতা সম্পর্কিত অশ্লীল কথাবার্তা
বলা জিহ্বার যিনা!
৩। বিবাহ সম্পর্ক ছাড়া অবৈধ ভাবে
কাউকে স্পর্শকরা হাতের যিনা!
৪। ব্যাভি চারের উদ্দেশ্যে হেঁটে
যাওয়া পায়ের যিনা!
৫। সে সম্পর্কিত খারাপ কথা শোনা
কানের যিনা।
৬। যিনার কল্পনা করা ও আকাংখা
করা মনের যিনা!
৭। অতঃপর লজ্জাস্থান একে পূর্ণতা
দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়!
✔
(বুখারী,,,মুসলিম,,,সুনানে আবু
দাউদ,,,সুনানে আন-নাসাঈ)
✔
------------------------------------
অথচ আমরা কেবল সর্বশেষ ধাপ
টিকেই যিনা মনে করে থাকি!এবার
ভেবে দেখুন আপনি এসব এর কোনো একটির সাথে জড়িত নয়তো?
✔
যিনা হারামঃ
✔
---------------------------
আল্লাহ তায়ালা যিনাকে হারাম ঘোষণা করে বলেনঃ তোমরা যিনার ধারে কাছেও যাবেনা।কেননা তা অত্যন্ত নির্লজ্জ এবং খারাপ কাজ।"
(সুরা বনী-ইসরাঈল আয়াতঃ ৩২)
✔
যিনার শাস্তিঃ
✔
------------------------------
রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেনঃ
“আমি স্বপ্নে একটি চুলা দেখতে পেলাম যার উপরের অংশ ছিল চাপা আর নিচের অংশ ছিল প্রশস্ত আর সেখানে আগুন উত্তপ্ত হচ্ছিল,ভিতরে নারী পুরুষরা চিল্লা চিল্লি করছিলো!>
আগুনের শিখা উপরে আসলে তারা
উপরে উঠছে,আবার আগুন স্তিমিত হলে তারা নিচে যাচ্ছিলো,সর্বদা তাদের এ অবস্থা
চলছিলো। আমি জিবরাঈল (আঃ) কে জিজ্ঞেস করলামঃ এরা কারা???
জিবরাঈল (আঃ) বললেনঃ
তারা হলো অবৈধ যৌনাচারকারী নারী ও পুরুষ।(বুখারী).যিনা কারীর লজ্জা স্থানের দূর্গন্ধে জাহান্নাম বাসী অস্থির হয়ে উঠবে।
সেদিন যিনা কারীকে পিপাসা মেটানোর
জন্য এই পঁচা পানি দেওয়া হবে।
তাই সবারই উচিত প্রেমিক-প্রেমিকা
নামের এই শয়তানি সম্পর্ক বাদ দেওয়া!
কারন,হাশরের ময়দানে এই সব শয়তানী সম্পর্ক থাকবে না।
থাকবে শুধুই আগুন!
সেদিন কেউ কাউকে
চিনবেও না আর বলবে,হায় আফসোস!
আমি যদি রাসুলের দেখানো পথে চলতাম।
(সুরা ফুরকান:আয়াত ২৭)

জালেম সেদিন আপন হস্তদ্বয় দংশন
করতে করতে বলবে, হায় আফসোস!
আমি যদি রসূলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম।
অমুক বন্ধুর ডাকে সাড়া না দিতাম তাহলে
আজ আমার এ দশা হতো না।
"যদি কেও না জেনে এই অপরাধ করে থাকে!এবং খাস দিলে আল্লাহর কাছে তাওবা করে তবে আল্লাহ পাক তাকে ক্ষমা করে দিবেন!(ইনশাআল্লাহ)
(সুরা ফুরকান আয়াতঃ ৬৮-৭০)
"হে আল্লাহ এমন গুনাহ্ থেকে আমাদের
সকলকে হেফাজত করুন!【…আমিন…】

যিনা থেকে বাঁচার দোয়া:
আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাদাবিহি ওয়া মিন শাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাজাতিশ শায়াতিনি ওয়া আইয়াহদুরুন। 
অর্থ : আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীগুলোর অসিলায় তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনষ্টি থেকে, শয়তানের প্ররোচনা থেকে এবং তাদের আমার নিকট উপস্থিত হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

Tuesday, September 3, 2024

আদর্শ পুরুষের কতিপয় বৈশিষ্ট্য




ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে একজন আদর্শ পুরুষের কতিপয় বৈশিষ্ট্য;-


১.যে পুরুষের মাঝে আল্লাহর ভয় আছে,আছে উত্তম চরিত্র এবং যার চোখ-জিহবা সংযত -সে আদর্শ পুরুষ।


২.যে পুরুষ নিজ চরিত্র বিনয় ও লজ্জার গুণের সমম্বয় করে।


৩.যে পুরুষ শত ব্যস্ততা ও বিরুপ পরিস্থিতিতেও নিজ পিতা-মাতা,আত্মীয় স্বজন এবং প্রতিবেশীর হক আদায় করে।এবং এর পাশাপাশি তার স্ত্রী ও সন্তানকেও যথেষ্ট সময় দিয়ে থাকেন।


৪.যে পুরুষ স্ত্রী,পরিবার এবং পরিবারের বাইরেও সচ্চরিত্রবান ও নীতিবান।


৫.আদর্শ পুরুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত বেশি কথা বলে না।এতে করে তার মাঝে একধরনের ভাব-গাম্ভীর্যতা বজায় থাকে।সাথে সাথে তারা স্পষ্টভাষীও হয়ে থাকে।


৬.আদর্শ পুরুষ অহংকারী,হিংসুক,বদমেজাজি ও কঠোর প্রকৃতির হয় না।পাশাপাশি প্রবল রাগের সময়ও তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।


৭.আদর্শ পুরুষ গাইরাতবৈশিষ্ট ও আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন হয়ে থাকে।


৮.আদর্শ পুরুষ হবে ধৈর্যশীল,শৌর্য-বীর্য ও বীরত্বের অধিকারী এবং মেহনতি।এ ছাড়াও আদর্শ মুমিন পুরুষ বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ক্ষেত্রেই শক্তিশালী হয়ে থাকে।অক্ষম এবং দুর্বল হয় না।


৯.আদর্শ পুরুষ কখনো দুর্বলদের দূর্বলতার সুযোগ নেয় না।কাউকে ধোঁকাও দেয় না আবার এমন বিচক্ষণ ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন হয় যে,নিজে কারও কাছ থেকে ধোঁকার শিকারও হয় না।কেননা ধোঁকা মুসলমানদের আদর্শ নয়।


১০.আদর্শ মুমিন পুরুষ কপট ও সংকীর্ণ মানসিকতার হতে পারে না।বরং কিছু ক্ষেত্রে সে একদমই সহজ সরল ও উদার হবে।


Friday, August 30, 2024

বন্যার মুখে বাংলাদেশ

 


বাংলাদেশ, নদীমাতৃক একটি দেশ, প্রায়ই ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়। এই বন্যা, যা মৌসুমি বৃষ্টি ও নদীর পানির স্তর বৃদ্ধির ফলে ঘটে, মানুষের জীবনে অপরিসীম কষ্ট বয়ে আনে। বাড়িঘর পানির নিচে ডুবে যায়, ফসল ধ্বংস হয়ে যায়, আর মানুষজনের জীবন এলোমেলো হয়ে পড়ে। পরিবারের সবাই সবকিছু হারিয়ে ফেলে, শুধু যা কিছু রয়ে যায় তা আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করে, যখন পানি তাদের আশা ও স্বপ্নগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এক সময়ের প্রাণবন্ত গ্রামগুলো মরুভূমির মতো শুনশান হয়ে যায়, কেবল হতাশা আর অনিশ্চয়তা ভর করে। এই নিদারুণ কষ্টের মুখে মানুষের ধৈর্য্য পরীক্ষা হয়, কিন্তু তাদের ক্ষতির বেদনা যেনো প্রকৃতির নির্মম শক্তির এক হৃদয়বিদারক স্মৃতি হয়ে থাকে। 😭 আমিন


জুমার দিনের বিশেষ আমল



  ইসলামের দৃষ্টিতে পবিত্র জুমা ও জুমাবারের রাত-দিন অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ। জুমার দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলা হয়েছে। 

জুমার দিনের সওয়াব ও মর্যাদা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতোই। এ দিন ইসলামী ইতিহাসে বড় বড় ও মহৎ কিছু ঘটনা ঘটেছে। 

জুমার গুরুত্ব আল্লাহ তায়ালার কাছে এত বেশি যে, কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাজিল করা হয়েছে। 

আল্লাহ তা'আলা কোরআনে ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের আহ্বান জানানো হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে (মসজিদে) এগিয়ে যাও এবং বেচা-কেনা (দুনিয়াবি যাবতীয় কাজকর্ম ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর; যদি তোমরা জানতে। (সূরা জুমা- ০৯)।

রাসুল (সা.) একটি হাদিসে বলেছেন, মুমিনের জন্য জুমার দিন হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন।(ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর ১০৯৮)।

এক হাদিসে নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে দিনগুলোতে সূর্য উদিত হয়, ওই দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। ওই দিন হজরত আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়েছে। ওই দিন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং ওই দিনই তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়। আর ওই দিনই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। (মুসলিম শরিফ , হাদিস নম্বর ৮৫৪)

মহানবী (সা.) আরো ইরশাদ করেছেন, জুমার দিন দোয়া কবুল হওয়ার একটি সময় আছে , কোনো মুসলিম যদি সেই সময়টা পায়, আর তখন যদি সে নামাজে থাকে, তাহলে তার যেকোনো কল্যাণ কামনা আল্লাহ পূরণ করেন। (বুখারি, হাদিস নম্বর ৬৪০০)

জুমার দিনের বিশেষ আমল

রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ১০৪৭)।

এমনিতেই তিরমিজি শরিফের হাদিস অনুযায়ী আমরা জানতে পারি, যে ব্যক্তি দরুদ পাঠ করে আল্লাহ তার ওপর ১০টি রহমত নাযিল করবেন। সুতরাং আমাদের জুমার দিন অন্যান্য আমলের সাথে সাথে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে হবে।

 জুমার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিবেচনা করে প্রতিটি মুসলিমের উচিত এই দিনটিকে কাজে লাগানো।

Noyonpur Kazi Office


Tuesday, August 27, 2024

পাত্রী বাছাই করতে ইসলামের নির্দেশনা


পাত্রী নির্বাচনে ইসলামের নির্দেশনা

বিয়ে একটি পবিত্র বন্ধন। যার মাধ্যমে অচেনা অজানা নারী–পুরুষের যুগলবন্দি জীবনের সূচনা হয়। সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ বিভিন্নভাবে উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে এ বিয়ে বন্ধন সম্পন্ন করেন। সুখী দাম্পত্য জীবন যাপনের লক্ষ্যে শুরু হয় নতুন জীবন। নতুন একটি সংসার।

সাধারণত আমাদের সমাজে বিয়ের জন্য পাত্র বা পাত্রীর ধন সম্পদ উচ্চশিক্ষা ও বংশের বিষয়ে খুব বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়। 

বিয়ে ভীতির ঘটনাও ইদানীং অনেক বেশি আমাদের চোখে পড়ছে। তাই বিয়ে বিচ্ছেদ ও তালাক-ডিভোর্স এড়িয়ে দাম্পত্যজীবনকে সুখীময় করতে পাত্র পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুণীজনরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে হবু বধূর গুণাবলি সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

 যাতে দাম্পত্য জীবন হয় সুখী ও সমৃদ্ধিময়। সার্বিক দিক বিবেচনায় পরামর্শগুলো অত্যন্ত সুন্দর এবং খুব দামি। আমরা যদি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলতে পারি, তবেই আমাদের দাম্পত্য জীবন হতে পারে সুখময়। বিশেষ করে যারা এখনো বিয়ে করেননি। তাদের জন্য।


সাধারণত আমাদের সমাজে বিয়ের জন্য পাত্র বা পাত্রীর ধন সম্পদ উচ্চশিক্ষা ও বংশের বিষয়ে খুব বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়। অথচ এক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ের ধার্মিকতাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা হাদিসে বলা হয়েছে। সাধারণত ধার্মিক মানুষের মধ্যে হিংসা, অহংকার, দাম্ভিকতা ইত্যাদি থাকে না। তারা অত্যন্ত বিনয়ী এবং আল্লাহভীতি লালল করেন।


ওলামায়ে কেরাম লিখেছেন, সাধারণ বা নিম্ন আয়ের একজন মানুষের জন্য বিয়ের ক্ষেত্রে একজন দরিদ্র শ্রেণির নারীকেই বিয়ে করা ভালো। ধনী নারীকে বিয়ে করা উচিত না। এমনকি ধনী শ্রেণির জন্যও তার চেয়ে তুলনামূলক কম ধন সম্পদের অধিকারী এবং দিনদার নারীকে বিয়ে করা উচিত। কারণ, যে ব্যক্তি ধনাঢ্য নারীকে বিয়ে করবে, সে পাঁচটি বিপদে পতিত হবে-


১. মোহর বেশি দিতে হবে। আর বাস্তবেও আমরা লক্ষ করব– মোহর বেশি ধরা হয়। কিন্তু পরিশোধ করা হয় না। অথচ এটা একজন নারীর প্রাপ্য অধিকার।

 

২. যদি কোনো কারণ বশত বিয়ে ভাঙতেই হয় তবে এক্ষেত্রে খুব বেশি বিলম্ব হবে। টালবাহানা হতে থাকবে। কারণ, তার বিভিন্ন চাহিদা দাবি ইত্যাদি বাহানা শেষ হবে না।

 

৩. স্ত্রীর মাধ্যমে কোনো সেবা-যত্ন পাওয়া অসম্ভব হয়ে যাবে। অনীহা অনিচ্ছা থাকতে পারে। অথচ যা আমাদের যুগ যুগ ধরে চলে আসা ঐতিহ্য। আর নারীর যত্ন সেবা ইত্যাদি একজন পুরুষের জন্য প্রায় সর্বদা দরকারও বটে।


৪. স্ত্রী খুব বেশি খরচপাতি চাইবে। যা বর্তমানে অনেক নারীর অভ্যাস হয়ে উঠছে। কারণ আগ থেকে হাত খরচা বেশি করে নেওয়া এবং খরচে অভ্যস্ত জীবন যাপন করা ইত্যাদি।  


৫. যদি অপারগতার কারণে তালাক দিতে হয়। প্রয়োজন পড়ে, তবে চাইলেও সম্পদের লোভ তালাক থেকে বিরত রাখবে। দাম্পত্য জীবন আরও অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে।


আর চারটি বিষয় স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর নিম্নস্তরের হওয়া উচিত। অন্যথায় স্ত্রীর চোখে স্বামী হেয় প্রতিপন্ন হয়ে থাকবে-

 

১. বয়স। অন্তত পাঁচ বা সাত বছরের ব্যবধান থাকা ভালো। ২. শারীরিক দৈর্ঘ্য। স্বামীর শারীরিক গঠন দৈর্ঘ্য ইত্যাদি বেশি থাকা উচিত। ৩. সম্পদ। স্ত্রীর থেকে অর্থ সম্পদ বেশি থাকা উচিত। ৪. বংশ-মর্যাদা। অন্ততপক্ষে সমান বংশ-মর্যদার হওয়া উচিত।

 

আর চারটি বিষয়ে স্ত্রী স্বামী থেকে উচ্চস্তরের হওয়া জরুরি-

১. সৌন্দর্য। স্ত্রীর সুন্দর রূপ সৌন্দর্য থাকা, যাতে দৃষ্টি হেফাজত থাকে অন্য মহিলাদের থেকে। 

২. আদব-আখলাক। স্ত্রীর আদব –আখলাক, নম্রতা ভদ্রতা ও শিষ্টাচারের গুণ থাকা উচিত।

 ৩. তাকওয়া। তথা স্ত্রীর আল্লাহভীতি বা ধার্মিকতা। যা তার স্বামীকে যাবতীয় অন্যায় ও গুনাহ থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করবে। 

৪. চরিত্র। অর্থাৎ, স্ত্রীর জন্য স্বামীর চেয়ে উত্তম স্বভাব চরিত্রের হওয়া উচিৎ।


উপর্যুক্ত এ বিষয়গুলো খেয়াল রেখে পাত্র–পাত্রী নির্বাচন করা হলে। স্বামী স্ত্রী উভয়ই সুখী দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।


লেখক: খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর।

Monday, August 26, 2024

হাদিসের বাণী







 আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি কীভাবে ওয়াহী শুরু হয়েছিল।

 


এ মর্মে আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ ’’নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সেরূপ ওয়াহী প্রেরণ করেছি যেরূপ নূহ ও তাঁর পরবর্তী নবীদের (নবীদের) প্রতি ওয়াহী প্রেরণ করেছিলাম।’’ (সূরাহ্ আন-নিসা ৪/১৬৩)

১. ’আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস আল-লায়সী (রহ.) হতে বর্ণিত। আমি ’উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কাজ (এর প্রাপ্য হবে) নিয়্যাত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়্যাত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে ইহকাল লাভের অথবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশে- তবে তার হিজরত সে উদ্দেশেই হবে, যে জন্যে, সে হিজরত করেছে।] (৫৪, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)


حدثنا الحميدي عبد الله بن الزبير، قال حدثنا سفيان، قال حدثنا يحيى بن سعيد الانصاري، قال اخبرني محمد بن ابراهيم التيمي، انه سمع علقمة بن وقاص الليثي، يقول سمعت عمر بن الخطاب ـ رضى الله عنه ـ على المنبر قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ‏ "‏ انما الاعمال بالنيات، وانما لكل امرى ما نوى، فمن كانت هجرته الى دنيا يصيبها او الى امراة ينكحها فهجرته الى ما هاجر اليه ‏"‏‏.‏

Sunday, August 18, 2024

চকলেট আইসক্রিম স্যান্ডউইচ চিপস ইত্যাদি ক্রিম জাতীয় খাবার বাচ্চাদের জন্য কতটুকু উপকারী জেনে নিন

 👉বাচ্চাদের আদর করে, খুশি করতে গিয়ে তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে দেই আমরা। আমরা কি আসলেই জানি?


👉 আমরা জানি এগুলা ক্ষতিকর, এরপরও তাদেরকে খুশি করতেই আদরের নামে বিষ কিনে ব্রেইনের কোষ নষ্ট করে দিচ্ছি আমাদের অজান্তেই। 


👉প্যাকেটজাত চিপস, চকোলেট জুস, কেক বিস্কুট এগুলো দীর্ঘ সময় ধরে অভ্যাসে বাচ্চাদের মারাত্মক বিপদ ডেকে আনে। 


👉বাচ্চাদেরকে যত বেশি ন্যাচারাল খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে পারবেন ততই ভালো।  সেগুলো যদি লোভনীয় উপায়ে তাদের সামনে প্রেজেন্ট করা যায়, তাহলে তারা খুব আগ্রহ নিয়ে খাবে।


👉আসলি'র প্রতিটা ডেজার্ট বাচ্চাদের ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট এর জন্য খুবই উপকারী, হাড়ের গঠনের জন্য, এনার্জেটিক ও উৎফুল্ল রাখতে বাদাম বেশ কার্যকরী।  


👉নরমালি খালি খালি বাদাম বাচ্চারা খেতে চায়না, তারা মিষ্টি জাতীয় খাবারই বেশি খায়, তাই আমাদের চিনি মুক্ত প্রাকৃতিক মিষ্টি আইটেম গুলো খাওয়ানো অভ্যাস করতে পারেন ।


🌼🌼 আসুন আমরা একটু সচেতন হই 

নিজের ও নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখুন